এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার নিয়ম ২০২২

বর্তমানে প্রত্যেক স্মার্টফোন ইউজারই এন্ড্রয়েড ফোন রুট শব্দটির সাথে পরিচিত। যদিও বা তারা অ্যান্ড্রয়েড ফোন রুট করার নিয়ম বা পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন না, কিন্তু সবাই রুট করা বেপারটি সম্পর্কে জানেন। 


এন্ড্রয়েড ফোন রুট হচ্ছে সেই জিনিস, যা আপনি আপনার ফোন রুট করার আগে করতে পারতেন না, কিন্তু ফোন রুট করার পর সেই কাজ গুলি করতে পারবেন। 


অর্থাৎ ফোন রুট করলে আপনাকে আপনার ফোনের সকল কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়, যেটাকে বলা হয় এডমিনিস্ট্রেটর। যেমন ধরুন, আপনার ফোনে যে ডিফল্ট অ্যাপ গুলি আছে সেগুলো কিন্তু আপনি আপনার ইচ্ছামত কন্ট্রোল করতে পারবেন না।


কিন্তু যখনই আপনি আপনার ফোন রুট করবেন, তখনি আপনি আপনার ফোনের সেই ডিফল্ট অ্যাপ (যে অ্যাপ গুলি আগে থেকেই ফোনে থাকে) গুলিকে কন্ট্রোল করতে পারবেন। 


আরো যদি একটু ক্লিয়ার করে বলি তাহলে বিষয়টা এমন দাঁড়াবে যে, আপনার ফোনে যে ডিফল্ট অ্যাপ গুলো আছে, সেগুলো কিন্তু আপনি চাইলে ডিলিট বা আনইন্সটল করতে পারবেন না। কিন্তু যখন আপনি ফোন রুট করবেন, তখন আপনি সেই অ্যাপ গুলি ডিলিট বা আনইন্সটল করতে পারবেন। আশা করি এবার বুঝতে পারলেন। 


তো যারা আপনারা ফোন রুট করে কিভাবে এই বেপারে ভাবছেন তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেল। এই আর্টিকেলে আমি দেখাতে চলেছি যেকোনো ফোন রুট করার নিয়ম এবং ফোন রুট করার সফটওয়্যার গুলো নিয়ে। 



ফোন রুট সাধারণত আপনি দুই ভাবে করতে পারবেন। কম্পিউটারের মাধ্যমে এবং মোবাইলের মাধ্যমে। তবে যেহেতু আমরা মোবাইল রুট করবো, তাই আজ মোবাইল দিয়েই ফোন রুট করার নিয়ম গুলো দেখে নিব। 


তবে ফোন রুট করার আগে আমাদের অবশ্যই গুরুত্বসহকারে ফোন রুট কি (What is phone root), ফোন রুট করার সুবিধা অসুবিধা এবং ফোন রুট করার উপকারিতা কি তা জেনে নেওয়া উচিত। 


ফোন রুট কি (What is phone root)

বাংলায় রুট শব্দটির অর্থ হচ্ছে গাছের শিকড়। কিন্তু লিনাক্স বা এন্ড্রয়েড এর জগতে রুট বলতে সেই পারমিশনকে বুঝায় যার মাধ্যমে একজন মোবাইল ব্যবহারকারীকে সকল ক্ষমতার অধিকারী করে তোলা হয়। 

সহজ ভাষায় রুট বলতে বোঝায় এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর বা প্রশাসক। যাকে একটি মোবাইলের সকল এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন পারমিশন বা অনুমতি দেওয়া হয়। 


আর এই পারমিশন বা অনুমতি যদি আপনাকে দেওয়া হয় তাহলে আপনি আপনার ফোন ডিভাইসে যা ইচ্ছে তাই করতে পারবেন। যেটা আমি উপরেই বললাম। 


যারা আপনারা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারী, তারা আপনারা এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর প্রিভিলেজ ছাড়া কখনোই ফোনের সিস্টেম ফাইল গুলো নিয়ে কাজ করতে অর্থাৎ নিজের ইচ্ছেমতো কন্ট্রোল করতে পারবেন না। একি ভাবে লিনাক্সেও রুট অনুমিত ইউজার ছাড়া সিস্টেম এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর কাজ গুলো করা যায় না।


এক কথায় যার সব কিছু করার অনুমতি রয়েছে তাকে রুট ইউজার বা রুট বলা হয়। খেলায় করুন এটাকে কিন্তু রুট ইউজার বলা হয়। কিন্তু বর্তমানে রুট শব্দটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে এতোটাই পরিচিত হয়ে গেছে যে এটাকে আমরা রুট ইউজার বলার পরিবর্তে সরাসরি রুট বলি। তবে আমরা যাই বলি না কেন ফোন রুট কিভাবে করতে হয় এটা জানাই সবচেয়ে জরুরি। 


ফোন রুট করার আগে করণীয় 

ফোন রুট করার আগে কি করতে হয়– বন্ধুরা আপনার হাতের ফোনটিকে রুট করার আগে, আপনাকে প্রাথমিক কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। তা না হলে আপনাকে ফোন রুট করার সময় কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই, তারাহুরো না করে ফোন রুট করার আগে, অবশ্যই আপনার করণীয় হবে নিচের নিয়ম গুলো পড়ে, তারপর ফোন রুট করার কার্যক্রম শুরু করা। 


  • মোবাইল ফোন রুট করার আগে আপনার ফোনের চার্জ কমপক্ষে ৫০-৭০% এর বেশি করে নিবেন। কারণ রুট করার সময় মোবাইল অফ হলে ফোনের ক্ষতি হতে পারে।
  • এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট এর প্রসেস ভালোভাবে না জেনে বা না বুঝে রুট করতে যাবেন না। কারণ নিয়ম না জেনে ফোন রুট করতে গেলে, ভুলভাল কিছু করে ফেললে, ফোনের অপারেটিং সিস্টেম নস্ট হতে পারে। 
  • ফোন রুট করার আগে, ফোনের সকল প্রয়োজনীয় ফাইল, ডকুমেন্টস ব্যাকআপ করে রাখবেন। 
  • যে অ্যাপের মাধ্যমে আপনি ফোন রুট করবেন, সেটা অবশ্যই ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজে ইনস্টল করতে হবে।
  • রুট করা অ্যাপটি ওপেন করে তাতে দেওয়া স্টেপ গুলো সঠিক ফলো (follow) করে নিজের smartphone রুট করবেন। 


এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার নিয়ম – How to root Android phone

একটা সময় ছিল যখন এন্ড্রয়েড ফোন রুট করা অনেক কঠিন কাজ ছিল, যখন অ্যান্ড্রয়েড ফোন রুট করার জন্য কম্পিউটার এর প্রয়োজন হতো। 


কিন্তু এখন এন্ড্রয়েড ফোন রুট করা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। এখন আপনি এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার অনেক উপায় এবং ফোন রুট করার অনেক সফটওয়্যার পাবেন। যেগুলোর মাধ্যমে মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটে ফোন রুট করতে পারবেন। 


এই আর্টিকেলে আমি এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার ২ টি সহজ পদ্ধতি দেখাব। যেগুলোর ফলো করে আপনারা সবচেয়ে সহজ ভাবে ফোন রুট করতে পারবেন। তাহলে চলুন, আর কথা না বাড়িয়ে ফোন রুট করার নিয়ম দুটি দেখে নেই। (ফোন রুট করার পদ্ধতি) 


১ম পদ্ধতি — কম্পিউটার ছাড়া এন্ড্রয়েড ফোন রুট নিয়ম 

এই পদ্ধতিতে আমরা ফোন রুট করার জন্য যে অ্যাপটি ব্যবহার করব, সেই অ্যাপটি হচ্ছে Kingo Root. তো Kingo Root দিয়ে ফোন রুট করার জন্য নিচের স্টেপগুলো ফলো করুন। 

  • প্রথমে এই লিংক থেকে Kingo Root অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। 
  • এরপর অ্যাপটি Install করে ওপেন করলে নিচের চিত্রের মতন দেখতে পাবেন। (মোবাইলের ইন্টারনেট কানেশন অবশ্যই চালু করবেন)।

  • এরপর আপনারা সেখানে One Click Root নামে একটি লেখা দেখতে পারবেন। তো উপরের স্ক্রিনশট এর মতো আপনারা সেই লেখায় ক্লিক করবেন। 
  • এরপর আপনার ফোন রুট হওয়া শুরু করবে এবং আপনারা নিচের স্ক্রিনশট এর মতো দেখতে পাবেন। 

  • এরপর রুট হওয়ার প্রসেস ১০০% কমপ্লিট হলে আপনারা নিচের ছবির মতন Root Success দেখতে পাবেন। 

  • ব্যস, এতটুকু করলেই এই পদ্ধতীতে আপনার মোবাইল সফল ভাবে রুট হয়ে যাবে।


২য় পদ্ধতি — মোবাইল দিয়ে রুট করার নিয়ম 

এ পদ্ধতিত ফোন রুট করার জন্য যে অ্যাপটি ব্যবহার করব, সেই অ্যাপটির নাম হচ্ছে King Root. নামের দিক দিয়ে King Root এবং Kingo Root দেখতে প্রায় একই রকম হলেও, এ দুটি অ্যাপ কিন্তু একটির থেকে আরেকটি আলাদা।


এটি দিয়ে মাত্র এক ক্লিকেই আপনার ফোনটি রুট করতে পারবেন। আর এই অ্যাপটি দিয়ে এন্ড্রয়েড এর প্রায় সকল আপডেট ভার্সন পর্যন্ত রুট করা যায়।


  • প্রথমে এই লিংক থেকে King Root অ্যাপটি আপনার ফোনে ডাউনলোড করে নিন।
  • এরপর অ্যাপটি ওপেন করলে কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার ফোনটি স্ক্যান হবে এবং নিচের ছবির মতন শো করবে। রুট করার জন্য অবশ্যই আপনার মোবাইলের ডাটা কানেকশন অন করে রাখবেন।

  • এরপর সেখানে নীল রংয়ের Try it বাটনে ক্লিক করলে ফোনের রুট Status Verify শুরু করবে।

  • এরপর নিচের ছবির মতো নীল কালারের Start Root বাটনে ক্লিক করলে আপনার মোবাইল ফোনটি রুট হওয়া শুরু করবে।

  • এরপর রুট প্রসেস ১০০% কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এটি কমপ্লিট হতে ২/৩ মিনিট সময় নিতে পারে। ১০০% হয়ে গেলে নিচের ছবির মতন Success ম্যাসেজ দেখতে পাবেন।

  • এখন আপনার মোবাইলটি Restart করুন।
  • এরপর শুধু KingUser টি রেখে  অন্যান্য বাকী অ্যাপ Uninstall করে দিতে পারেন।
  • নোটঃ রুট করতে কোন প্রকার সমস্যা হলে King Root এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হতে রুট করার টিউটোরিয়াল দেখে নিতে পারেন।


রিস্টার্ট হওয়া পর মোবাইলে SuperSU নামের একটি অ্যাপ দেখতে পাবেন। এটি হচ্ছে আপনার রুট অ্যাপ/ইউজার। আশা করি সবাই বুঝতে পারবেন। তারপরও যদি কারও বুঝতে অসুবিধা হয় কিংবা কোন প্রকার সমস্যা হয় তাহলে কমেন্ট করে আমাকে জানাবেন।


ফোন রুট করা তো হয়ে গেলো। এখন যদি কোনো সমস্যায় পরেন তাহলে তো ফোন আনরুট করতে হবে, তাই না! তাই নিচে আমি অ্যান্ড্রয়েড ফোন রুট করার নিয়ম এর পাশাপাশি, ফোন আনরুট করার উপায় ও দিয়ে দিলাম। 


এন্ড্রয়েড ফোন আন রুট করার নিয়ম 

  • পদ্ধতি-১ঃ যারা King Root দিয়ে ফোন করেছেন, তারা Kingroot → General settings → Uninstall Kingroot → Clear root হতে মোবাইল আনরুট করতে পারবেন।
  • পদ্ধতি-২ঃ মোবাইল রুট করার পর যাদের ফোনে SuperSU ইনস্টল হয়, তারা SuperSU এ্যাপ থেকে Settings → Full Unroot ব্যবহার করে মোবাইল আনরুট করতে পারবেন।
  • পদ্ধতি-৩ঃ এ পদ্ধতিতে রুট মোবাইল আনরুট করার জন্য গুগল প্লে-স্টোরে Universal Unroot নামে একটি অ্যাপ পাবেন। আপনি চাইলে প্লে-স্টোর হতে সেই অ্যাপটি ইনস্টল করে ফোন আনরুট করতে পারেন। এই অ্যাপটি ইনস্টল করে ওপেন করলেই মোবাইল আনরুট করার অপশন পাবেন। আর আনরুট অপশনে ক্লিক করে কনফার্ম করলেই কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার এন্ড্রয়েড ফোন আনরুট হয়ে যাবে। 


এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার সুবিধা | ফোন রুট করার উপকারিতা কি?

  1. ফোন রুট করে কিছু ট্রিকস এর মাধ্যমে মোবাইলের স্পিড ও পারফরমেন্স বৃদ্ধি করতে পারবেন।
  2. যেটা আগেই বলেছি, আপনি যখন নতুন কোনো মোবাইল কিনেন, তখন ফোনে কিছু অ্যাপস আগে থেকে ইনস্টল করা থাকে, যেগুলো আপনি uninstall করতে পারবেন না। যেগুলোর কারণে অনেক সময় মোবাইল স্লো কাজ করে। কিন্তু আপনি যখন ফোন রুট করবেন, তখন সেই ডিফল্ট অ্যাপস গুলোকে uninstall করতে পারবেন।
  3. আপনার মোবাইলের UI (user interface) পরিবর্তন করতে পারবেন।
  4. processor over clock এবং under clock করে সহজে মোবাইলের processor ও performance বাড়িয়ে নেওয়া যায়।
  5. অন্যান্য কোম্পনির স্মার্টফোন গুলোর stock rom বা custom rom গুলো আপনি মোবাইলে ইনস্টল করতে পারবেন।
  6. প্রসেসর এর গতি বা পারফর্ম বাড়াতে পারবেন। 
  7. অপ্রয়োজনীয় এ্যাপস বন্ধ রেখে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়াতে পারবেন।
  8. বিভিন্ন ধরনের কাস্টম মডিউল ব্যবহার করে ফোনকে ইচ্ছামত ডিজাইন করতে পারবেন। সাথে ফোনে পছন্দমত কাষ্টম ফন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। 


ফোন রুট করার অসুবিধা | ফোন রুট করার অপকারিতা

  1. ফোন রুট করলে ফোনের ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যাবে। তবে সার্ভিস সেন্টারে দেওয়ার আগে মোবাইল পুনরায় আন রুট করে নিলে মোবাইল কোম্পানির সেটি বোঝার সম্ভাবনা কম থাকে।
  2. ফোন রুট করলে, ফোন কাজ করার ক্ষমতা হারাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফ্লাশ করলে আবার ঠিক হয়ে যাবে।
  3. ফোন রুট করলে OS অপারেটিং সিস্টেম থেকে ফোন অটো আপডেট নাও পেতে পারেন। এক্ষেত্রে OTA আপডেট করার সময় Error ম্যাসেজ শো করবে।
  4. রুট করা ফোনে অপারেটিং সিস্টেম আনলক থাকার কারণে আপনার মোবাইলে নানা ধরনের ক্ষতিকারক ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। 
  5. সঠিকভাবে না বুঝে তাড়াহুড়া করে মোবাইল রুট করলে, রুট করার সময়ই ফোন নস্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


শেষ কথাঃ 

তো বন্ধুরা, এই আর্টিকেলে আমি এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার সবচেয়ে সহজ দুটি উপায় নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করলাম। আশা করি আপনারা সম্পুর্ণ নিয়ম গুলি বুঝতে পেরেছেন। তার পরেও যদি কারো বুঝতে অসুবিধা হয়, তাহলে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। 

ব্যস, তাহলে বন্ধুরা এখন থেকে আপনার মোবাইলটি রুটেড ডিভাইস। এবং আপনি একজন রুট ইউজার হয়ে গেলেন। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url