ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করার কার্যকরী উপায়

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সকলেই ভালো এবং সুস্থ আছেন। কিভাবে ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করতে হয় এবং ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করার উপায় নিয়েই মূলত আজকে আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করব। 




অনলাইন ব্যবসা এখন বেশ জমজমাট। সবাই ঝুঁকছেন এই দিকে। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে এক ছাদের নিচে আছেন উদ্যোক্তারা। বেকারদের কর্মসংস্থানও হচ্ছে এতে। শুধু দরকার একটি ফেসবুকে পেজের।


পেজ খোলা তো মিনিট দুয়েকের বেপার। এরপর সেই ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করবেন কী করে? ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করার উপায় কি? হুড়মুড় করে সবাইতো আর আপনার পেজে লাইক বা ফলো করার জন্য বসে থাকবে না। 


টাইমলাইন খুললেই আমরা কোন না কোনো জনপ্রিয় নায়ক, নায়িকা, খেলোয়ার,  নিউজ মিডিয়া এবং নাটক-সিনেমার পেজ এবং তাদের পোস্ট দেখতে পাই। আবার আমরা অনেক পেজে লাইক দিয়েও সবসময় পেজ গুলো ফলো করে থাকি।


কিন্তু এতো সব কিছুর ভিতরে আমরা জানি না কিভাবে ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করে তুলতে হয়। আমরা সবাই ফেসবুক পেজ সম্বন্ধে জানলেও ফেসবুক পেজ  জনপ্রিয় করে তোলার উপায় হয়তো শুধু তারাই জানেন যারা সেই পেজগুলো চালান। (ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করার পদ্ধতি) 


আরো পড়ুনঃ কিভাবে ফেসবুকে ডার্ক মোড চালু করবেন। ফেসবুক ডার্ক মোড চালু করার নিয়ম


আসলে বিষয়টি সেরকম নয়। যারা পেজের কন্টেন্ট উপভোগ করেন তারা কিভাবে বুঝবে যে ফেসবুক পেজ কিভাবে জনপ্রিয় করে তুলতে হয়। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে হয়তো তারা ভেবেচিন্তে দু একটা উপায় বলতে পারবেন তাও হয়তো সঠিক হবে না।


যদি প্রশ্ন করা হয় ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করার টিপস বা উপায় কি? (how to make your Facebook page popular) এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো, কিছু টাকা দিয়ে ফেসবুক পেজকে পেইড প্রমোশন করা। (কিভাবে ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করতে হয়) 


আসলে ফেসবুককে টাকা দিয়ে যেকোনো Facebook page promote করাটা সত্তি অনেক লাভজনক।


এই মাধ্যমে পেজ জনপ্রিয় করার জন্য আপনাকে আর কোনো কিছু করতে হবে না। কারণ, সব কাজ ফেসবুক নিজে করে নিবে। আপনি শুধু Facebook কে টাকা দিবেন। এতে আপনার পেজে অনেক দ্রুত Like এবং Followers নিয়ে আসবে।


আরো পড়ুনঃ কিভাবে ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার গার্ড অন করে দেখে নিন 2022


কিন্ত আমাদের মধ্যে সবাই কিন্ত ফেসবুককে টাকা দিয়ে পেজ জনপ্রিয় করাটা পছন্দ করেনা। আর আমিও আপনাদের সেটা বলবো যে কিছু সময় বেশি লাগলে ও টাকা দিয়ে ফেসবুক পেজ প্রমোট করার কোনো দরকার নেই। (ফেসবুক পেজে বেশি ফলোয়ার পাওয়ার উপায়) 


কারণ, একটি পেজ তখন জনপ্রিয় যখন সেই পেজে অসংখ্য লাইক এবং ফলোয়ার্স থাকে।


এমনিতে, আপনার ফেসবুক পেজে প্রচুর পরিমানে লাইক এবং ফলোয়ার্স নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন ফ্রি এবং কার্যকর উপায় রয়েছে। একটি পেজের content বা post গুলো যখন মানুষরা পছন্দ করবে, সেই ক্ষেত্রে আপনার পেজটিকে জনপ্রিয় বলা যাবে। (ফেসবুক পেজে বেশি লাইক পাওয়ার উপায়)


তবে, নিজের ফেসবুক পেজে অসংখ্য followers এবং like বাড়ানোর জন্য ব্যস্ততার কৌশলটি আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। আপনাকে ভাবতে হবে নিজের পেজে মানুষদের কিভাবে ব্যস্ত করে রাখতে পারেন, সেই বিষয়ে বিশেষ ভাবে ভাবতে হবে।

 

আরো পড়ুনঃ আপনি কোথায় আছেন তার লোকেশন কিভাবে অন্যজনকে দিবেন


এজন্য মানুষদেরকে নিজের ফেসবুক পেজে ব্যস্ত রাখার জন্য এবং পেজের আকর্ষণ বৃদ্ধি করার জন্য আপনাকে আকর্ষণীয় ছবি, পোষ্ট বা কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে।


তো চলুন এবার ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করে তোলার কার্যকরী উপায়গুলো দেখে নেওয়া যাক। 



ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করার উপায় 


১. পেজের প্রোফাইল গুছিয়ে নিন। 

ইউজারনেম

ফেসবুক পেজের জন্য অন্যরকম একটা নাম থাকলে নিজেকে আলাদা করতে পারবেন ঠিকই, তবে ব্যবহারকারীরা পেজটাকে সহজে খুঁজে পাবে না। মাথায় রাখতে হবে মানুষের খোঁজার অভ্যাস। অর্থাৎ মানুষ গুগল বা ফেসবুকে কী লিখে সার্চ করছে সেটা মাথায় রেখে পেজের নাম ও ইউজারনেম ঠিক করুন। এক্ষেত্রে পরিচিত ব্র্যান্ড হলে সে নামেই পেজ খোলা যায়। আর যদি ব্র্যান্ডের চিন্তা মাথায় না থাকে, তবে পেজের নাম বা ইউজারনেম যতটা সম্ভব সাধাসিধে রাখুন।


ফেসবুক পেজ এর ইউআরএল কেমন হবে তা নির্ভর করে ইউজারনেম এর উপর। তাই ফেসবুক পেজে ইউজারনেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই এমন একটি ইউজারনেম নির্ধারণ করুন যেটি মানুষের খুব সহজেই মনে থাকে। আর ইউজারনেম কিন্তু ফেসবুক প্রোফাইলের মতো বারবার চেঞ্জ করা যায় না। তাই একটু সময় নিয়েই ইউজারনেম সিলেক্ট করুন। 


সাধারণত যেকোনো নতুন ফেসবুক পেজ এর ইউজারনেম থাকেনা। তাই আপনার পেজ এর ইউজারনেম সেট করতে পেজের নামের  নিচে থাকা Create Page @Username এ ক্লিক করে ইউজারনেম সেট করতে পারবেন।


আরো পড়ুনঃ কিভাবে ফেসবুক পেজ ডিলিট করবেন। ফেসবুক পেজ ডিলিট করার নিয়ম ২০২১



প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটো

যখনই কোনো ফেসবুক পেজে ভিজিট করা হয় তখনই সর্বপ্রথম নজরে আসে সেই পেজটির প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটো। এছাড়াও আপনার পেজ থেকে করা সকল পোষ্টের নামের সাথে আপনার পেজ এর প্রোফাইল পিকচার ও প্রদর্শিত হয়।


তাই একটি ফেসবুক পেজ খোলার পর সর্বপ্রথম আপনাকে আপনার ফেসবুক পেজ এর প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটোর দিকে নজর দিতে হবে। আপনার পেজ যদি কোনো ব্যবসার হয়, তাহলে আপনার ব্যবসাকে রিপ্রেজেন্ট করে আপনার ব্যবসার প্রতীক এর লোগো প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।


ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটো এমন হওয়া উচিত, যাতে যেকোনো স্ক্রিন সাইজেই দেখতে ভালো লাগে। কভার ফটো প্রোডাক্ট প্রোমোশনের কাজেও ব্যবহার করা যায়। আর প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটো ডিজাইনের জন্য আপনি বিভিন্ন অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। 


ফেসবুক পেজ এর জন্য সহজেই ও বিনামূল্যে প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটো ডিজাইন করতে ক্যানভা ওয়েবসাইটটি এবং পিক্সেল ল্যাব অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন।


আরো পড়ুনঃ কিভাবে ফেসবুক পেজ খুলতে হয়


আপনার পেজ সম্বন্ধে তথ্য যোগ করুন 

ফেসবুক পেজের ক্ষেত্রে প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটোর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পেজ এর About সেকশন। তাই আপনি এ-ই সেকশনটি আপনার পেজ সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্য যোগ করে দিবেন।


অনেকে আবার কোনোরকম পেজ খুলেই লাইক বাড়াতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ডেসক্রিপশন, স্লোগান, ঠিকানা, খোলা থাকার সময়, ওয়েবসাইট, ফোন নম্বর, লোকেশন এসব ঠিকঠাক না করলে সেই পেজের প্রচার করবে না ফেসবুক। তাই সময় নিয়ে এসব তথ্য পূরণ করুন। নিজের মতো করে একটি এনিমেটেড বা ভিডিও কাভার যোগ করতে পারলে বেশ ভালো। কোনও ছবি আপলোড করলে সেটার একটা সুন্দর বর্ণনা লিখতে ভুলবেন না। 


আরো পড়ুনঃ কিভাবে ফেসবুকে ফলোয়ার অপশন চালু করবেন। ফেসবুকে ফলোয়ার অপশন চালু করার নিয়ম



সঠিকভাবে সেটিংস সাজান 

আপনার পেজের সেটিংস সঠিকভাবে সাজানো খুবই দরকারি একটি কাজ। একটি মানুষের যেমন সবার আগে চেহারা যাচাই করা হয় ঠিক তেমনি আপনার পেজের সবাই আগে সামনের সেটিংস গুলো দেখবে প্রোফাইল পিকচার কভার পিকচার দেখবে এবং ডেসক্রিপশন পরবে।


তাই এই জায়গা গুলো অবশ্যই সুন্দর করে এডিট করবেন যাতে সবাই এগুলো দেখে আকর্ষিত হয় এবং আপনাকে লাইক দেয় ও ফলো করে। 


আরো পড়ুনঃ কিভাবে ফেসবুকে রিয়াক্ট সংখ্যা হাইড করে। ফেসবুকে লাইক হাইড করার পদ্ধতি


কল টু অ্যাকশন

বিজনেস সংক্রান্ত পেজ হলে অবশ্যই ওপরের দিকের বারে উপযুক্ত বাটন রাখবেন। কারও ক্ষেত্রে সেটা হতে পারে সেন্ড মেসেজ, কারও বেলায় সাইন-আপ। আবার পেজের ‘শপ’ সেকশনে যখন যথেষ্ট আইটেম থাকবে তখন ‘শপ নাও’ বাটনও যোগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে সেন্ড মেসেজ বা কল বাটনের ব্যবহারই বেশি বলা যায়।



গ্রুপ যোগ করুন

পেজের ফ্যান-ফলোয়ার বাড়তে শুরু করলে তাদের সবাইকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। তাদের মতামত বা পোস্ট শেয়ার করার জন্য আলাদা করে একটা গ্রুপ বানিয়ে নিতে পারেন। ওই গ্রুপের কারণেও বাড়তে পারে অর্গানিক লাইক।


আরো পড়ুনঃ কেউ আপনার ফোন টাচ করলেই এলার্ম বেজে উঠবে



লাইভ করুন

সাধারণ ভিডিও বা পোস্টের চেয়ে ১০ গুণ বেশি রিচ পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে। তাই পেজের সঙ্গে মানানসই কোনও আইডিয়া পেলে সেটার লাইভ করার চেষ্টা করুন। ফেসবুক এখনও লাইভ ভিডিওগুলোকে তাদের নিউজ ফিডে সবার ওপরে রাখার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে কোনও পণ্য বা সেবার ডেমো কিংবা মজার কোনও টিউটোরিয়াল দেখাতে পারেন।



ইনস্ট্যান্ট রিপ্লাই দিন 

আপনার বিজনেস পেজে ইনবক্স করা মাত্রই যেন ক্রেতারা কোনও না কোনও তথ্য পায়, সে জন্য অটোমেটিক রিপ্লাইয়ের ব্যবস্থা রাখুন। পেজের সেটিংস-এ গিয়ে বামপাশের মেসেজিং অপশনে যান। এরপর রেসপন্স অ্যাসিসট্যান্ট সিলেক্ট করে ‘সেন্ড ইনস্ট্যান্ট রিপ্লাইস’ সিলেক্ট করুন। চেঞ্জ-এ ক্লিক করে নিজের মতো করে বার্তাটি লিখুন। আপনার ক্রেতা বা গ্রাহক যদি শুধু এ দেশীয় হয়, তবে অভ্যর্থনার বার্তা বাংলাতেই লিখুন। সবশেষে ‘সেভ’ করুন।


আরো পড়ুনঃ কিভাবে ইউটিউবে তামিল, হিন্দি, ইংলিশ যেকোনো মুভি বাংলা সাবটাইটেলে দেখবেন



২. নিয়মিত পোস্ট করা 

প্রথমত আপনার ফেসবুক পেজকে জনপ্রিয় করার জন্য এবং ফলোয়ার লাইক ভিজিটর বাড়ানোর জন্য যে কাজটা করতে হবে সেটা হচ্ছে নিয়মিত পোস্ট করা। ফেসবুক পেজ সবার কাছে পৌঁছানোর জন্য নিয়মিত পোস্ট করা খুব জরুরি। কারণ ফেসবুক একটি পাবলিক প্লেস এখানে আপনার কনটেন্ট সারাদেশব্যাপী বা বিশ্বব্যাপীও ছড়াতে পারে। 


তাই আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই এটাকে নরমাল কোন ব্যাপার মনে করেন তাহলে ভুল করছেন। কেননা পেজ এর জনপ্রিয়তার পাশাপাশি লাইক ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য নিয়মিত পোস্ট করার কোনো বিকল্প নেই।


আপনি যখন কোন সাইডে বা কোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে নিয়মিত পোস্ট করবেন তখন কিন্তু সেই সাইটগুলোর সার্চ ইঞ্জিন আপনার অ্যাক্টিভিটি বেশি হওয়ার জন্য আপনার সেই পোস্ট গুলো অনেক বেশি ভিজিটর সামনে অটোমেটিক্যালি শো করাবে।


নিয়মিত পোস্ট করলে আপনার কনটেন্ট প্রথমে হয়তো একটা জেলায় ছড়াবে তারপর দশটা জেলায় এরপর পুরো দেশে। যার ফলে তখন কিন্তু এমনিতেই আপনি আপনার পেজের লাইক কমেন্ট পেয়ে যাবেন।


পোস্ট করার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন একটি আদর্শ অর্গানিক ফেসবুক পোস্টের দৈর্ঘ্য হলো ৪০-৮০টি অক্ষর (ইংরেজিতে, স্পেসসহ)। অল্প কথায় বেশি তথ্য দিতে পারলেই সেটার ‘রিচ’ বাড়িয়ে দেয় ফেসবুক। আর পেজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোস্টটাকে ‘পিন’ করে রাখবেন। 


সঠিক তথ্য দিয়ে পোস্ট করা 

পেজের বাড়াতে উল্টোপাল্টা খবর বা ভুল কিছু পোস্ট করতে যাবেন না। ভুয়া তথ্য নিয়ে ফেসবুক এখন বেশ সরব। ভুল তথ্যের ‘রিপোর্ট’ পেলে দেখা যাবে আপনার পেজটা চলে যাবে লাল তালিকায়।


আপনার গ্রাহক বা পেজের অনুসারীদের অভ্যাস বা রুটিন বুঝে নিন। সেই অনুযায়ী বেছে নিতে হবে পোস্ট করার সময়। একেক ধরনের পেজে ব্যবহারকারীদের এংগেজমেন্টের সময়টাও একেক রকম। যেমন খাবার ডেলিভারি সংক্রান্ত পেজ হলে সকাল বা বিকালের সময় পোস্ট করুন, মধ্যরাতে নয়।


আরো পড়ুনঃ রবি এসএমএস কেনার কোড 2021। রবি এসএমএস অফার ২০২১



৩. বিভিন্ন গ্রুপে এবং পেজে আপনার পেজ সম্পর্কে প্রচার করুন 

ফেসবুকে হাজার হাজার গ্রুপ রয়েছে যেগুলো অসংখ্য  ফলোয়ার্স বা মেম্বার রয়েছে। আর তাই নিজের ফেসবুক পেজ প্রমোট করার সেরা মাধ্যম হলো এই গ্রুপ গুলো। আপনার পেজের কনটেন্টগুলো যদি আপনি বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে শেয়ার করেন এতে বিভিন্ন গ্রুপ গুলোতে থাকা মেম্বারস আপনার পেজ এবং পেজের কনটেন্টগুলো দেখতে পারবেন। তাছাড়া আপনার কন্টেন্ট গুলো যদি মজাদার হয়ে থাকে তাহলে সেই গ্রুপগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার পেজে প্রচুর ফলোয়ার পাবেন। 

অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ইন্সট্রাগ্রাম, টুইটার বা যেকোনো অন্য মসোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার পেজের প্রচারণা চালাতে অবশ্যই ভুলবেন না। এখান থেকে যদি কিছু করতে চান তাহলে অবশ্যই ভালো হবে আর যত অপশন ট্রাই করবেন সম্ভাবনা ততই বাড়তে থাকবে। 


আপনার বা আপনার কোন পশুদের মানুষের যদি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে তাহলে তাদের থেকেও এ ব্যাপারে সহায়তা নিতে পারেন।


আরো পড়ুনঃ এন্ড্রয়েড ফোনের সেরা নোটপ্যাড অ্যাপস



৪. বন্ধুদের ইনভাইট করুন 

প্রথম অবস্থায় পেজে লাইক এবং ফলোয়ার পাওয়ার জন্য এটি হচ্ছে সবচেয়ে সহজ উপায়। তাই আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের সবাইকে আপনার পেজে লাইক দেয়ার জন্য ইনভাইট করুন এক্ষেত্রে যদি আপনার ফেসবুক প্রোফাইল এর মধ্যে 1000 জন ফ্রেন্ডস থাকে এবং তাদের মধ্যে যদি একশ জন আপনার পেজে লাইক করেন তাহলে সেটা কিন্তু অনেক। 


যখন আপনার বন্ধুরা আপনার পেজের লাইক এবং ফলো করবেন তখন আপনার পাবলিশ করা নতুন পোস্টগুলো গুলো তাদের টাইমলাইনে প্রদর্শিত হবে। এবং যখন তারা সেই পোস্টগুলোতে কমেন্ট করবে তখন তার বন্ধুরা সেই পোস্টটিতে করা কমেন্ট এবং আপনার পেজটি দেখতে পারবে।


আজকাল অনেকেই একের অধিক ফেসবুক আইডি চালায়। আপনি যদি তাদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবে আপনার নিশ্চই অনেকগুলো একাউন্ট রয়েছে। যদি থাকে তাহলে আপনি আপনার সব আইডি থেকে আপনার বন্ধুদের ইনভাইট করুন। প্রয়োজনে আপনার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরকেও তাদের আইডি থেকে আপনার পেজে ইনভাইট করতে বলুন।


আরো পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে একসাথে অনেকগুলো ফাইলের নাম এবং ফরম্যাট চেঞ্জ করার অ্যাপস 



৫. অন্যান্য পেজের পোস্টে লাইক কমেন্ট করুন 

নিজের পেজে অন্যের লাইক কমেন্টের আশায় হা করে বসে না থেকে আপনার পেজের প্রোফাইল থেকে অন্যের পেজের ভালো পোস্টগুলোতে লাইক ও গঠনমূলক কমেন্ট করুন। শুধু শুধু নিজের পেজের নামটা দেখানোর জন্য এক শব্দে বা এলোমেলো কিছু লিখতে যাবেন না। এতে আপনার পেজের প্রতি কারও আগ্রহ থাকবে না। পেজের অর্গানিক গ্রোথ বাড়াতে শুরুতে এমন কিছু কমেন্ট করুন যাতে আপনার পেজটি সবার কাছে আকর্ষণীয় এবং ইউনিক মনে হয়। 



৬. জনপ্রিয় এবং ট্রেন্ডিং বিষয় ভিডিও এবং কন্টেন্ট পাবলিশ করুন 

জনপ্রিয় এবং ট্রেন্ডিং বিষয়গুলোর উপর সবসময় ফেসবুক এবং ফেসবুক ইউজারদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকে। আর ট্রেন্ডিং এরকম নতুন বা জনপ্রিয় কিছু দেখতে পেলে সবাই সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েন।


তাই অবশ্যই জনপ্রিয় জনপ্রিয়, ট্রেন্ডিং এবং ভাইরাল বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখবেন এবং সেই বিষয়গুলোর উপর কনটেন্ট পাবলিশ করবেন। যদি ছোট ছোট ভিডিও বানাতে পারেন তাহলে বিষয়টা আরো সুবিধাজনক হবে।


কেননা ট্রেন্ডিং বিষয়ে ভিডিও তৈরি করলে সেগুলো ফেসবুকে প্রচুর শেয়ার হয়ে থাকে। যার ফলে আপনি ভিডিও গুলোতে ভিউ পাওয়ার সাথে সাথেই নতুন কিছু ফলোয়ার পেয়ে যাবেন। তাই দিনে কমপক্ষে দুইটি করে ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে ভিডিও আপলোড করার চেষ্টা করবেন। 



৭. পোস্টে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন

অনেকেই মনে করেন, হ্যাশ শুধুমাত্র টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রামে জন্য। কিন্তু বিষয়টা আসলে এরকম নয়। অনেকেই আছেন যারা ফেসবুকেও হ্যাশট্যাগ দিয়ে সার্চ করে।


হ্যাশট্যাগ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি আপনার পাবলিশ করা কনটেন্টগুলো কে নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করতে পারবেন।


যখন ফেসবুকে কেউ কোন কন্টেন্ট লিখে সার্চ করে তখন সেই ক্যাটাগরির ভিতরে যদি আপনার কনটেন্ট থাকে তাহলে সেটা সামনে চলে আসবে ঠিক গুগল সার্চের মত। আর সামনে আসলেই বুঝতে পারছেন আপনার পোস্টের লাইক এবং ফলোয়ার বাড়বে। 


আরো পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে কিভাবে একসাথে অনেকগুলো ফাইল Rename করে এক ক্লিকে



৮. পেজে অটোলাইক নিতে পারেন 

অনেকের এ ব্যাপারে ভিন্নমত আছে। কিন্তু একটা পেজে শুরুর দিকেই অটো লাইক দিয়ে পেজে মোটামুটি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে লাইক নিয়ে রাখলে নতুন ভিজিটর আকৃষ্ট হয়।


পরবর্তীতে আপনার স্বাভাবিক সাধারণ কাজগুলো করলে পেজের লাইক এবং ফলো আর এমনিতেই পারবে। কিন্তু প্রথমদিকে লাইক পাওয়াটা খুবই কষ্টকর। আর ঐ সময়ে অটো লাইক আপনার পেজের ভিউয়ার বাড়াতে পারে। তাই এই অটোলাইকের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে পারেন। 


আর আপনি যদি মনে করেন যে আপনি এমনিতেই  স্বাভাবিকভাবেই লাইক বাড়াতে পারবেন তবে অটো লাইকের প্রয়োজন নেই। 


আরো পড়ুনঃ কিভাবে গুগলে ছবি সার্চ করে। গুগল ইমেজ সার্চ মোবাইল


৯. পেজে কনটেস্ট রাখুন

অনলাইন ইউজাররা বর্তমানে অনলাইন ইন্টারনেটের নিজের জ্ঞান অভিজ্ঞতা দেখার জন্য বেশ উৎসুক। আর এক্ষেত্রে আপনি প্রায় সময় কুইজ বা Poll রেখে নিজের পেজের আকর্ষণ বাড়িতে নিতে পারবেন। 


প্রশ্ন বা কুইজের বাইরে মাঝে মাঝে কিছু বিশেষ কনটেস্ট রাখুন। এবং যেই ব্যক্তি কনটেস্ট জিতবেন তার জন্য একটি বিশেষ পুরষ্কারের ব্যবস্থা করুন। 


এভাবেই অনেক ফেসবুক পেজ নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলেছে তাই একবার এই প্রক্রিয়া অবশ্যই ব্যবহার করে দেখবেন



১০. টাকা দিয়ে প্রচার করুন 

সাধারণত যখন আমরা আমাদের ফেসবুকে কোন পোস্ট দেখেই পাবলিশ করি তখন ফেসবুক থেকেই সাথে সাথেই সেই পোষ্টটি টাকা দিয়ে বুস্ট করার অপশন চলে আসে। 

তাই আপনি যদি কোন কষ্ট ছাড়া তাড়াতাড়ি নিজের পেজটিতে অধিক লাইক এবং ফলোয়ারস নিতে চান তাহলে আপনারকে এ-ই প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করতে হবে। 


ফেসবুক পেজ প্রমোশন বা বুস্ট এই প্রক্রিয়াতে ফেসবুক আপনার থেকে কিছু টাকা নিয়ে আপনার ফেসবুক পেজে কনটেন্টগুলো অন্যান্য ফেসবুক ইউজারদের কাছে নিজে নিজে দেখায়। যার ফলে কোনো কষ্ট ছাড়াই আপনার ফেসবুক পেজের প্রচার হতে থাকে। 


আরো পড়ুনঃ কিভাবে ছবি থেকে লেখা কপি করে । ছবি থেকে লেখা কপি করুন মাত্র ১ মিনিটে



১১. পেজ প্রমোট করতে পারেন 

যদি আপনার কি পার্সোনাল ব্লগ বা ওয়েবসাইট  থাকে তাহলে সেখানে নিজের ফেসবুক পেজ এর লিংক দিতে পারেন। এভাবে আপনার নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজের ফেসবুক পেজ প্রমোট বা প্রচার করতে পারেন।


তাছাড়া যদি আপনার একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে তাহলে সেখানে আপলোড করা প্রতিটি ভিডিওর ডেসক্রিপশনে আপনার সাথে কন্টাক্ট করার জন্য আপনার পেজের লিংক দিতে পারেন।


আরো পড়ুনঃ প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ বা গেম সরাসরি মেমোরিতে ডাউনলোড করুন



আমাদের শেষ কথাঃ 

সত্যি কথা বলতে মূলত, ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করার একটাই উপায় আছে। আর সেটা হলো নিজের পেজে লোকদের ব্যস্ত রাখার কৌশল। 


আর ফেসবুক ইউজারদের নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্য আপনাকে অবশ্যই ভালো ভালো এবং মজাদার কনটেন্ট পোস্ট করতে হবে। 


একটি ফেসবুক পেজ কেবল তখন জনপ্রিয় হয়ে দাঁড়াতে পারে যখন সেখান থেকে ইউজাররা তাদের মনের মত ইনফর্মেশন পেয়ে থাকে। 


আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আর হ্যা, যদি কোথাও বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url